সোমবার, ০৬ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ১৭:০৫

সৃষ্টি বিশ্বময় ও  লন্ডন বাংলা বই মেলা পর্ষদের আয়োজনে দুদিনব্যাপী উৎসব সম্পন্ন

নুরুল ইসলাম ফরহাদ।।
সৃষ্টি বিশ্বময় ও  লন্ডন বাংলা বই মেলা পর্ষদের আয়োজনে দুদিনব্যাপী উৎসব সম্পন্ন

"সারা বিশ্বে বাঙালি জাতির যে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তা অনেক বৈচিত্র্যপূর্ণ! কিন্তু এ বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতির মেলবন্ধনের ঐক্যে অনেক সময় বিভেদের চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু সংস্কৃতি কর্মীরা তাদের নানা আয়োজন ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সেই বিভেদকে দূর করে বাঙালির সংস্কৃতিকে এক সূত্রে গেঁথে রেখেছে।" 

শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬) লন্ডন বাংলা বইমেলা পর্ষদ ও সৃষ্টি বিশ্বময়ের দুদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসবের প্রথম দিনের আয়োজনে থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের উদ্বোধনী বক্তব্যে কথাগুলো বলেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন। 

উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, 'আমাদের ভাষা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে লন্ডন বাংলা বই মেলা পর্ষদ ও সৃষ্টি বিশ্বময় এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই আয়োজন। বর্তমান সরকার সংস্কৃতির উন্নয়ন ও পৃষ্ঠপোষকতায় যে পদক্ষেপগুলো  হাতে নিয়েছে সেগুলো আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে আমাদের সন্তানেরা একটি মানবিক ও সৃজনশীল বাংলাদেশ আমাদের উপহার দেবে।"

অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে আরো ছিলেন সৃষ্টি বিশ্বময় কেন্দ্রীয় সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক বাসুদেব ধর, কেন্দ্রীয় সম্পাদক অলক দাশগুপ্ত, সৃষ্টি বিশ্বময় চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি নাট্য শিক্ষক মোস্তফা কামাল যাত্রা, সংস্কৃতি সংগঠক তাপস হোড়, সৃষ্টি বিশ্বময় নির্বাহী সদস্য মুহাম্মদ সাজিদুল হক। সভাপতিত্ব করেন লন্ডন বাংলা বই মেলা সাহিত্য সাংস্কৃতিক উৎসবের মুখ্য সমন্বয়ক গোলাম মোস্তফা। 

আলোচনা অনুষ্ঠানের পর বিশ্বব্যাপী অনলাইন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনন্যা সংগীত নিকেতনের জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের শুভ সূচনা হয়। একক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন সঙ্গীত শিল্পী আদিত্য বড়ুয়া ও প্রাচী সেন। একক আবৃত্তি পরিবেশনায় ছিলেন দীপান্বিতা চৌধুরী, পিন্টু সাহা ও আমন্ত্রিত বিশিষ্ট আবৃত্তি শিল্পী ডক্টর মধুমিতা বসু। একক নৃত্যে অংশগ্রহণ করেন মেঘান্দ্রীলা ভট্টাচার্য, তনুকা দাস, পুতুল দে, ঐশীকা দাস ও নীলাদ্রি এন্ড্রুশ্বেতা। দলীয় পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করে সংগীত পরিষদ, অনন্যা সংগীত নিকেতন ও বিবেকানন্দ সংগীত নিকেতন। 

উৎসবের ২য় দিন (৫ জুলাই ২০২৬) বিশ্ব সঙ্গীত দিবসের আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন ক্যাপ্টেন ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, "সংস্কৃতির যে স্রোত তা কখনো সীমারেখা দিয়ে বেঁধে রাখা যায় না, সেটি তার আপন মহিমায় দেশ থেকে দেশান্তরে আলো ছড়াতে থাকে।"

দ্বিতীয় দিনের আয়োজনে দলীয় ও একক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করে ত্রিবেণী সঙ্গীত একাডেমী, অদিতি সংগীত নিকেতন, দ্য একাডেমি অফ ক্লাসিক্যাল এন্ড ফোক ডান্স ও রাফি তালুকদার। একক আবৃত্তি পরিবেশনায় ছিলেন ডক্টর মধুমিতা বসু ও ফারজানা এলি। 

বাইরে যখন তুমুল বৃষ্টি ও মিলনায়তন কানায় কানায় পূর্ণ, ঠিক তখনই বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী মানু মজুমদারের পরিবেশনা সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তিনি রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন পর্যায়ের গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। সবশেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে দুদিনব্যাপী উৎসবের সমাপ্তি হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সৃষ্টি বিশ্বময় চট্টগ্রাম অঞ্চলের সম্পাদক বাচিক শিল্পী দেবাশিস্ রুদ্র ও বাচিক শিল্পী রুনা চৌধুরী।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়